রাহুল ‘অরুণোদয়’ ব্যানার্জী

সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির নায়ক – নায়িকাদের দাদা দিদি বলার রেওয়াজ যথেষ্ট কম, তাদের নাম ধরে ডাকতেই আমরা বেশি পছন্দ করি। সিনেমায় ‘নামতে’ হলে এটা মাথায় নিয়েই সবাই কাজ শুরু করে। দাদা, কাকু, জেঠু – এই ডাকগুলো সাধারণত তোলা থাকে ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে। শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে উত্তম জেঠু বা সৌমিত্র কাকু বলবে, এটাই স্বাভাবিক; আমি আর আপনি তুলসী বাবু বলবো না, তুলসী চক্রবর্তীই বলবো। এখন ফ্যানদের এসোসিয়েশনের সৌজন্যে দেবদা, সোহিনীদি চলছে গ্রূপের মধ্যে বেশ ভালোভাবেই। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কতটা কাছে আসা উচিত সেটা নিয়ে আলোচনা চলতেই পারে ঠিক তেমনি দূরের তারারা মাটির কাছে নেমে আসুক – এটা বোধহয় সবাই চায়।  

এই লেখা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জীকে নিয়ে, তাই রাহুলদা বা রাহুলবাবু না বলে রাহুল দিয়েই শুরু করছি। যদিও আমি বিশ্বাস করি, তাঁর মতো মানুষকে অনায়াসেই দাদা বলা যায় – ঠিক পাশের বাড়ির ছেলেটার মতোই।  না, আমার সাথে কোনো আলাপ ছিল না রাহুলের; ঠিক তেমনিই কোনো ছবিও নেই সাথে। এমনকি চিরদিনের তুমি যে আমার সিনেমাটাও আমি দেখেছি মাত্র কয়েক বছর আগে, যদিও সাম্প্রতিককালের সবগুলো কাজই গোগ্রাসে গিলেছি একেবারে ‘ঠাকুমার ঝুলি’ অব্দি। রাহুলের অভিনয় তো মিস করবোই সেটা নিয়ে আমার বলার কোনো যোগ্যতা নেই, তাঁর সহজ কথা পডকাস্টের সবগুলো এপিসোডও আমার দু-তিন বার করে দেখা আর শোনা। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে মিস করব ওর লেখনীকে। বকিছু ছেড়ে দিয়ে রাহুল বন্দোপাধ্যায় যদি শুধুমাত্র লেখা নিয়েই থাকতেন তাহলে বাংলা সাহিত্য নিঃসন্দেহে আরো এক বলিষ্ঠ লেখককে পেতো।  

বিবেকানন্দ যেমন বলেছিলেন, ‘জন্মেছিস যখন তবে দাগ রেখে যাস’; আমিও তেমনি সবার মধ্যে যা কিছু দেখি সেখান থেকে ভালোগুলোকে কমলালেবুর কোয়ার মতো চুষে খেয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি।  লেখক রাহুলও তার ব্যতিক্রম নয়। সহজ, সরল, সাবলীল লেখার যে একটা চুম্বকীয় টান থাকতে পারে, রাহুলের লেখাগুলো তারই পরিচয় বহন করে। বিচ্ছিন্ন আর ধারাবাহিকভাবে চলা তাঁর লেখাগুলো সমাজের অনেকগুলো দিকও তুলে ধরে।  এমনকি বাবা হয়ে সহজকে লেখা চিঠিগুলো যেকোনো ছেলের কাছেই সম্পদ হয়ে থাকবে।  

গৌতম বুদ্ধের একমাত্র পুত্রসন্তানের নাম ছিল রাহুল যার নামের অর্থ হলো – যিনি দক্ষ হাতে জীবনের সব দুঃখ জয় করেছেন। সাগরে মিলিয়ে যাওয়া আমাদের রাহুলও এখন সবকিছুর ঊর্ধ্বে – আজ সকালে বাঙালির আকাশে কোনো অরুণোদয় হয় নি, আর হবেও না।   

সাথের ছবিটা পুরীর সমুদ্রতটে তোলা প্রায় বারো বছর আগে এক সন্ধ্যায় – 

ছায়া যখন দীর্ঘতর হয়ে গ্রাস করে মানুষ আর পৃথিবীকে,

তখনই এমন আঁধার নেমে আসে আমাদের চারপাশে।।


Discover more from Saikat Gupta

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.