
কলকাতায় থাকাকালীন তাঁর স্নেহ আর ভালোবাসা পেয়েছিলাম অনেক বছর। পরবর্তীতে সেটাই শিক্ষা হয়ে ফিরে এসেছিল আমার কাছে। মনে আছে, প্রথম দেখায় জিজ্ঞেস করেছিলেন, কি হতে চান আপনি? বছর দশেক কর্পোরেটের ঘানি ঘোরানো কর্মচারী উত্তর দিয়েছিল, আপনার মতো ওইরকম সরল ভাষায় লিখতে চাই। শরৎচন্দ্রের পর আমি অন্তত এমন কথ্য ভাষার লেখা পড়ি নি।
বছর কয়েকের মধ্যেই আপনি থেকে তুমিতে এসে গিয়েছিলেন, মন্ত্রগুপ্তির মতো কিছু শিখিয়েও দিয়েছিলেন এই হতভাগ্যকে যে তার সদব্যবহার এই জীবনে অন্তত করতে পারল না। না পারলাম লেখালেখি নিয়েই থাকতে, না হলো অন্য কিছু। কিন্তু, গুরু তো গুরুই হন; সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘সেই সময়’ যদি আমায় সামান্য কিছু লিখতে অনুপ্রাণিত করে থাকে তাহলে শঙ্করের ‘চরণ ছুঁয়ে যাই’ আমার কাছে বাইবেল।
বাইবেল থেকে গেল, হাতের ছোঁয়াও অনেকগুলো বইয়ের পাতায় রইলো; কিন্তু মানুষটাই যে আজ চলে গেল।