পুরীতে ঘুরতে গিয়ে নরেন্দ্র সরোবরে নিশ্চয়ই গেছেন আপনি। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন – চন্দন সরোবর বলেই আমরা যাকে বেশি চিনি। ফিরে যাই আমাদের ভুবনেশ্বরে থাকার বছরগুলোতে, চোখের সামনে ভেসে উঠছে অনেক কিছু ঘটনা।
আজ, অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে শুরু হয় চন্দনযাত্রা। প্রথম একুশ দিনের নাম হলো বাহার চন্দনযাত্রা আর শেষ একুশ দিনকে বলে ভিতর চন্দনযাত্রা; আজ থেকে শুরু হয়ে সব মিলিয়ে বিয়াল্লিশ (৪২) দিন। কিভাবে এলো এই চন্দনযাত্রা? শুনুন তাহলে। দ্বাপর যুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ প্রচন্ড গরমের সময়ে বৃন্দাবনে সারা গায়ে চন্দন মেখে স্নান করতেন। চন্দনে শরীর ঠান্ডা রাখে। আবার এই শ্রীকৃষ্ণই জরাসন্ধকে বধ করে পঞ্চপান্ডবদের নিয়ে একসাথে চন্দন মেখে স্নান করেন।
পুরীর জগন্নাথদেবকে শ্রীকৃষ্ণেরই অবতার হিসেবে মানা হয়, তাই ঈশ্বরকে মানুষের মতো দেখিয়ে তাঁরও যে গরম লাগতে পারে আর গরম লাগলে আমার/আপনার মতো তিনিও স্নান করেন; সেটা বোঝাতেই এই চন্দনযাত্রার আয়োজন করা হয়। শ্রীমন্দির থেকে একটি বিশেষ পালকিতে করে এই একুশদিন রোজ বিগ্রহগুলো চন্দন সরোবরে আসে। কোন বিগ্রহ? আচ্ছা বলছি তাহলে। চন্দনস্নানে আসেন মদনমোহন, শ্রীদেবী আর ভূদেবী। মদনমোহন আসলে বংশীধারী শ্রীকৃষ্ণের এক রূপ, শ্রীদেবী হলেন লক্ষ্মীদেবী আর ভূদেবী হলেন ধরিত্রীমাতা, যিনি লক্ষ্মীরই অন্য এক রূপ; বরাহ অবতারের স্ত্রী। এঁদের সাথে থাকেন সেই পঞ্চপান্ডব।
প্রত্যেকদিন শ্রীমন্দির থেকে পালকিতে এসে বিগ্রহগুলি ‘নন্দা’ ও ‘ভদ্রা’ নাম দুই নৌকায় বসে নৌকাবিহার করেন এবং দিনের শেষে আবার মন্দিরে ফিরে যান। আজ থেকে টানা একুশ দিন এভাবেই চলবে আর ‘ভৌঁরি’ বলে একটা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরোটা শেষ হয়।
তাহলে কি দাঁড়ালো? পুরীধাম এইসময়ে পুরো জমজমাট। তবে নীলাচলে আরো মাহাত্ম্য আছে এই অক্ষয় তৃতীয়ার। বসন্ত পঞ্চমী মানে আমাদের সরস্বতী পুজোর সময়ে যে কাঠগুলো সংগ্রহ করা হয় সেগুলো দিয়ে আজকের দিন থেকেই রথ তৈরির প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়া হয়। আর মাস তিনেকের মধ্যেই রথযাত্রা আর পুরীর মন্দির থেকে মাসির বাড়ি যেতে দেখা যাবে তালধ্বজ, নন্দীঘোষ আর দর্পদলনকে।
ভাবছেন বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের এই তৃতীয়াতে এতো কিছু ঘটে? আমরা তো সোনার দোকান, হালখাতা আর মিষ্টির প্যাকেট নিয়েই ব্যস্ত থাকি! আসলে আজ নারায়ণ পুজোর দিন, তাই স্পেশাল তো হবেই।
যেতে যেতে দুটো ভালো খবর দিয়ে যাই – আজ বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার, কুঠার হস্তে রাম, মানে পরশুরামের জন্মতিথি আর আমাদের অতি প্রিয় গণেশ ঠাকুর আজকের দিনেই বেদব্যাসের মহাভারত লেখা শুরু করেন।
অক্ষয় হোক আজকের দিন।।

Discover more from Saikat Gupta
Subscribe to get the latest posts sent to your email.