নাম বিভ্রাট

আচ্ছা, রাজীবকে আপনারা কি বলে ডাকেন? রাজীবই বলেন তো? নাকি রজত বা রাজেন বলে ডাকেন? ডাকেন না তো? আমিও ঠিক সেইরকম আনোয়ার বলেই ডাকি, সেটা আলী হয়ে যায় না । ভাবছেন কেনো বলছি এইরকম কথা? বেশ তবে শুনুন। প্রাইমারীতে ক্লাস ওয়ান থেকে ফোর অব্দি যে স্কুলে পড়েছি সেখানে শুভজিৎ বলে এক বন্ধু ছিল। কাছেই থাকতো,…

এক চোরের গল্প

সবে তখন বাড়ি করে বেলঘড়িয়াতে এসেছি। হঠাৎ একদিন সকালে উঠে দেখা গেলো বাড়ির পেছনে কুয়োর পাশে রাখা লোহার বালতিটা নেই। খোঁজ খোঁজ – পাওয়া গেলো না আর। নতুন আর একটা কেনা হল। কিছুদিন পর শুনলাম পাশের পাড়ায় একটা সাইকেল চুরি হয়েছে। আগে যেখানে থাকতাম সেই বরাহনগরে চুরি কাকে বলে জানতাম না। সবসময়ই যে দোতলার দরজায়…

প্রথম সব কিছু

সুমন ধরতাই দিয়েছিলেন অনেক বছর আগে – ‘এ শহর জানে আমার প্রথম সব কিছু’ সত্যিই তো জানে, আর এটা তো সত্যি যে প্রথম সব কিছুর স্বাদ একটু অন্যরকম হবেই। প্রথম স্কুলে যাওয়ার ওই খাকি ব্যাগ যেটা পিঠে নিয়ে নার্সারীতে ভর্তি হয়েছিলাম জাগৃতিতে, সেই ব্যাগটা বহু বছর ছিল বাড়িতে। তাকিয়ে থাকতাম অপলক দৃষ্টিতে পরে। জলের বোতল…

প্রথম ছাপার অক্ষরে

ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন, হঠাৎ রবিবারের আনন্দবাজারে একটা বিজ্ঞাপন দেখলাম: “ভারত – বাংলাদেশ মৈত্রী মজবুতে যৌথ উদ্যোগে এক কবিতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ইচ্ছুক লেখক – লেখিকারা সত্ত্বর মৌলিক লেখা পাঠান। মনোনীত কবিতাগুলি গঙ্গা – পদ্মা ম্যাগাজিনের প্রথম সংখ্যায় ছাপা হবে।” ততদিনে অপটু হাতে কিছু কবিতা লেখা হয়ে গেছে, কিছু ছন্দ মিলিয়ে আর কিছু গদ্যের…

ভাড়া বাড়ি – ৪

বরাহনগরের বাড়িটার আর একটা বড় আকর্ষন ছিল লম্বা একটা ছাদ। ঘুড়ি ওড়ানো থেকে রাস্তা দিয়ে যাওয়া মিছিল, পয়লা বৈশাখের প্রভাত ফেরি থেকে ঠাকুর ভাসান – অনেক কিছুর সাক্ষী ওই ছাদ। ছাদ লাগোয়া ঘরে আমি থাকতাম একটু বড় হতে, বেশ মানিয়ে নিয়েছিলাম একা একা থাকা। রাতে কেঁপে উঠতো গোটা বাড়ি, ভারী লরি যেতো ওই রাস্তায়। ওই…

ভাড়া বাড়ি – ৩

বরাহনগরের কথা বলতে বসলে একে একে অনেক কিছু ভিড় করে আসে। মনে পড়ে ভাই বোন, টুনটুন, দুলুদাদের অমায়িক ব্যবহার – দোকানে জিনিস কিনতে গেলেও যে একটা সম্পর্ক তৈরি হয় এরা তার প্রমাণ। আজও ভুলতে পারিনি ইলেকট্রিক এর সেই দোকানের মালিককে যে বাবার রিটায়ারমেন্ট এর দশ বছর আগে থেকেই দোকানে গেলে জিজ্ঞেস করতেন, মাস্টারমশাই আপনি retire…