ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন, হঠাৎ রবিবারের আনন্দবাজারে একটা বিজ্ঞাপন দেখলাম: “ভারত – বাংলাদেশ মৈত্রী মজবুতে যৌথ উদ্যোগে এক কবিতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ইচ্ছুক লেখক – লেখিকারা সত্ত্বর মৌলিক লেখা পাঠান। মনোনীত কবিতাগুলি গঙ্গা – পদ্মা ম্যাগাজিনের প্রথম সংখ্যায় ছাপা হবে।” ততদিনে অপটু হাতে কিছু কবিতা লেখা হয়ে গেছে, কিছু ছন্দ মিলিয়ে আর কিছু গদ্যের…
Category: Bengali
ভাড়া বাড়ি – ৪
বরাহনগরের বাড়িটার আর একটা বড় আকর্ষন ছিল লম্বা একটা ছাদ। ঘুড়ি ওড়ানো থেকে রাস্তা দিয়ে যাওয়া মিছিল, পয়লা বৈশাখের প্রভাত ফেরি থেকে ঠাকুর ভাসান – অনেক কিছুর সাক্ষী ওই ছাদ। ছাদ লাগোয়া ঘরে আমি থাকতাম একটু বড় হতে, বেশ মানিয়ে নিয়েছিলাম একা একা থাকা। রাতে কেঁপে উঠতো গোটা বাড়ি, ভারী লরি যেতো ওই রাস্তায়। ওই…
ভাড়া বাড়ি – ৩
বরাহনগরের কথা বলতে বসলে একে একে অনেক কিছু ভিড় করে আসে। মনে পড়ে ভাই বোন, টুনটুন, দুলুদাদের অমায়িক ব্যবহার – দোকানে জিনিস কিনতে গেলেও যে একটা সম্পর্ক তৈরি হয় এরা তার প্রমাণ। আজও ভুলতে পারিনি ইলেকট্রিক এর সেই দোকানের মালিককে যে বাবার রিটায়ারমেন্ট এর দশ বছর আগে থেকেই দোকানে গেলে জিজ্ঞেস করতেন, মাস্টারমশাই আপনি retire…
ভাড়া বাড়ি – ২
সকাল শুরু হতো পাশের হরিণঘাটা ডিপো থেকে বোতলের দুধ এনে, যদিও তারও আগে মাঝরাতে রাতজাগা পার্টির লাইট পোস্টে লাঠির বাড়ি দিয়ে সেই “জাগতে রহ” বলে ডাক ঘুম ভাঙিয়ে দিত। চোরেদের ঘুম এমনিতেই উড়ে গেছিল যদিও আমাদের কোনোদিন কোনো কিছু চুরি হয়নি। এদিক ওদিক থেকে খবর আসতো লোডশেডিং এর সময়ে চুরির ঘটনা। চোরেদের নিয়ে বাবার আর…
রেকর্ড
“জন্মেই দেখি ক্ষুব্ধ স্বদেশভূমি” – না, কবির মতো এই কথা বলার সুযোগ পাইনি। বরং, জন্মের পর জ্ঞানের চোখ খুলে দেখেছি শুধু বই আর বই। বরানগরের বাড়িতে শোয়া বসার জায়গা ছিল কম, বেশিরভাগটাই দখল করে থাকতো ইতস্তত এদিকে ওদিকে ছড়ানো ছেটানো অসংখ্য বই। বেশীরভাগই বাংলা, বাকিটা ইংরেজি। বই নিয়ে বলতে গেলে দিন আর রাত পেরিয়ে যাবে,…
তবলা
মনমোহন সিংহের ভারতের অর্থমন্ত্রী হতে তখনও আরো দশ-বারো বছর বাকি, তার আগেই আমার বাড়িতে ছিল ওনার উদার অর্থনীতির মুক্ত পরিবেশ। মাধ্যমিক অবধি এতো কম পড়াশোনা দেখে অনেকেই আঁতকে উঠেছিল। সারা দিনের বেশিরভাগ সময় আমার কাটতো হয় গান শুনে না হয় তবলা বাজিয়ে কিংবা মাঠে ফুটবল, ক্রিকেট খেলে। পড়াশোনার জন্য স্কুল বাদে বরাদ্দ ছিল সকালে এক…