দুধের বোতল

ঘড়িতে তখন কাঁটায় কাঁটায় ভোর সাড়ে চারটে। সরকারী বাস সবে চলা শুরু করেছে, মর্নিং ডিউটি যাদের তারা রেডি হচ্ছে। আমার পিসি যেমন পাঁচটার বাসে রোজ রামমন্দির যেতেন জালান স্কুলে পড়াতে। বড় রাস্তার ওপরে যাদের বাড়ি, তাদের এই সময়ে একবার ঘুম ভাঙতে বাধ্য। এর দায় একা শুধু রাস্তা, বাস আর মানুষের নয়; সাথে ছিলো আরো এক…

আমার বব ডিলান

ছোটবেলায় এলভিস প্রেসলি, বব ডিলান, জন ডেনভারদের নাম শুনলেও এঁদের গান শুনতে অনেকটা দেরি হয়ে গেছিলো। তখন আমি মজে ছিলাম একদিকে রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, অতুলপ্রসাদ, রজনীকান্ত আর দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের গানে আর অন্য দিকে বড়ে গুলাম আলী, আমির খান, বাবা আলাউদ্দিন, রবিশঙ্কর আর নিখিল ব্যানার্জীতে। তাই পশ্চিমের গান একটা সময় অব্দি আমার কাছে অধরাই ছিল। স্কুল পেরিয়ে…

হাফ সোলের গপ্পো

কুটিঘাটের ডাচ সাহেবের পোড়ো বাড়ির শেষকোণে সবচেয়ে মিষ্টি আম গাছটার মগডালে তখন আমি। হঠাৎ দেখি কে যেন আসছে – মুখে তখন একটা আধ-খাওয়া আম আর বাঁ হাতে একটা গোটা ধরা। পড়ি কি মরি করে লাফ দিয়ে নিচে নেমে চটি পরে দে-দৌড়। কাঁটাগাছ, শুকনো পাতা, আগাছা পেরিয়ে পাঁচিল যেই টপকেছি, পিঠে কি একটা এসে পড়লো। ভালো…

আসি – যাই

হাতটা অনেকক্ষণ রেখে দিয়েছিলাম একপাশে, যদি তুমি একবার ধরো; চোখের দিকে তাকিয়ে ভুলতে চেয়েছিলাম অনেক কিছু, যদি তুমি চেয়ে থাকো – বদলে বললে তুমি, আড়ি।   রাগ না অভিমান, বুঝতেই কেটে গেল সময়টা – চশমার কাঁচটা ঝাপসা হয়েছে কিনা বুঝতে যখন ভাবছি খুলে দেখবো একবার, তুমি বললে, যাই।   দুরের দৃষ্টি ভালো না বলে আশেপাশেই…

কুঠির ঘাট

কে যেন মারা গেছে বলে স্কুল হাফ ছুটি হয়ে গেছে। এত তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে কি আর হবে, তাই তিনজন মিলে ক্লাস রুমে বসেই বেঞ্চ বাজাচ্ছে। একজন তবলা শিখছে ছোটো থেকে, একজন পাড়ার অনুষ্ঠানে টুকটাক কঙ্গো বঙ্গো বাজায় আর শেষ জন ভালো তীর ছোড়ে। কামালই আইডিয়াটা দিলো, যাবি নাকি গঙ্গার ধারের ওই বাড়িতে? কিছু করার নেই…

এই ছেলেটা, ভেলভেলেটা….

ছেলেটা বরাবরই একটু অন্যরকম। শহুরে সভ্যতায় বড় হয়েও ভালোবাসে কাদাজলে ছপ্ ছপ্ করে লাফাতে কিংবা পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে একটা জায়গায় তিনদিন শুধুই বসে কাটিয়ে দিতে। সেই ছেলেটা যে আর সবার সাথে ডাংগুলি খেলবে বা রকে বসে আড্ডা মারবে এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। তাই মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে যখন বন্ধুরা মিলে ঘাটশিলা যাওয়ার প্ল্যান করলো, আর কেউ…